বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন শেষ হলো নিম্নমুখী প্রবণতায়

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশ রক্ষণশীল মনোভাব বজায় রাখতে দেখা যাচ্ছে তাদের। এছাড়া বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমাবে কিনা, সে বিষয় নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় শুক্রবার বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ শেয়ার সূচক সপ্তাহ শেষ করেছে নিম্নমুখী প্রবণতায়। খবর রয়টার্স।

এশিয়া প্যাসিফিকের বৃহৎ সূচকগুলোর মধ্যে এদিন চীনের মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিটের পতন হয়েছে দশমিক ৯৭ শতাংশ। হংকংয়ের বাজারে হ্যাং সেং সূচক কমেছে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ পতনের দেখা পেয়েছে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। থাইল্যান্ডে এসইটি সূচকে পতনের হার ছিল ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। মালয়েশিয়ায় এফটিএসই বুরসা মালয়েশিয়া ইনডেক্সে পতন হয়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। আর অস্ট্রেলিয়ায় এসঅ্যান্ডপি এএসএক্স সূচকে পতনের হার ছিল ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এছাড়া এদিন মুম্বাইয়ে বিএসই সেনসেক্স সূচক বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ। আর করাচির কেএসই ১০০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ফেডের সুদহার ও মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শাটডাউনের পর প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা পরিসংখ্যানগুলো আগামী সপ্তাহে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।

সপ্তাহের শেষ দিনে ইউরোপেও অধিকাংশ শেয়ারসূচক ছিল নিম্নমুখী। জার্মানির ডয়েচে বোর্স সূচকে এদিন পতন হয়েছে দশমিক ৬৯ শতাংশ। আমস্টারডম এক্সচেঞ্জ ইনডেক্সে এ পতনের হার ছিল ১ শতাংশ। দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে কমেছে ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক। আর লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচকও কমেছে ১ দশমিক ১১ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিলের সম্ভাবনায় সেখানকার বিনিয়োগকারীরা এখন লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা দেখাচ্ছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোর সাপ্তাহিক বাজার শেষ হয়েছে মিশ্র প্রবণতায়। যদিও নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার সকালে লেনদেন শুরুর সময় প্রধান তিন সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট ও ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ছিল নিম্নমুখী। শেষ পর্যন্ত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ আগের দিনের চেয়ে কমলেও বেড়েছে নাসডাক কম্পোজিট। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মুহূর্তে এনভিডিয়ার প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় বাজারে লেনদেনকারীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিছুটা রক্ষণশীল মনোভাব।

দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক এখন ৬ হাজার ৭৩৪ দশমিক ১১ পয়েন্টে স্থির রয়েছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ২২ হাজার ৯০০ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৪৭ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে।

ফেডের ডিসেম্বর বৈঠকে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় কমতে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের ওপরে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের প্রভাব। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী এফওএমসির ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ৬৭ শতাংশ থেকে কমে এখন অবস্থান করছে ৫০ শতাংশের নিচে।

এ বিষয়ে কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ্রি স্কমিড শুক্রবার বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এখনো অনেক বেশি উত্তপ্ত। এটি শুধু শুল্কের কারণে হচ্ছে না। নীতিনির্ধারকরা সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে আমি ডিসেম্বর বৈঠকেও ভিন্নমত পোষণ করতে পারি। এর আগে অক্টোবরে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলাম।’

আরও